সরকারী চাকরিতে যেতে হলে প্রত্যেককে ডোপ টেস্টের আওতায় আসতে হবে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান খবর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকারী চাকরিতে যেতে হলে প্রত্যেককে ডোপ টেস্টের আওতায় আসতে হবে। এতে কেউ পজিটিভ হলে তিনি সরকারী চাকরি পাবেন না। এ ধরনের একটি কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা ‘মানস’ এ সভার আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু নিয়োগ প্রার্থীরা না, যারা ইতোমধ্যে যোগদান করেছেন আমরা তাদেরও ডোপ টেস্টের আওতায় নিয়ে আসছি। বিশেষ করে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীতে যারা আছেন তাদের প্রত্যেকের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। ডোপ টেস্টে যাদের পজিটিভ পাচ্ছি, তাদের বিরুদ্ধে আমরা এ্যাকশন নিচ্ছি। তিনি জানান, বাংলাদেশে জনসংখ্যার ৪৯ ভাগ মানুষ বয়সে তরুণ। মাদক ব্যবসায়ীরা এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে মাদকের ভোক্তা হিসেবে পেতে চায়। দেশে মাদকাসক্তদের ৮০ ভাগই কিশোর ও তরুণ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকের বিস্তৃতি যাতে না ঘটে এবং যুব সমাজ যাতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নতুন প্রজন্মের মেধাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি সেজন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মোরাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, তরুণ প্রজন্মের মেধাকে ধরে রাখতে না পারলে আমরা ২০৩০ ও ২০৪০ সালের যে স্বপ্ন দেখছি তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের আইনকে আরও সমৃদ্ধ করেছি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক যাতে দেশে না আসে সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনীকেও শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দিয়েছিলেন তেমনই মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও তিনি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে বলেছেন। আমরা তার নির্দেশনা মথায় রেখে কাজটি করছি। যেকোন মূল্যে আমরা দেশ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করব।

আসাদুজ্জামান কামাল জানান, নাফ নদী দিয়ে ইয়াবা নামের ভয়ঙ্কর মাদক প্রবেশ করে, সেখানেও আমাদের নজরদারি রয়েছে। বিদেশী এজেন্সিগুলো আমাদের যেগুলো গোয়েন্দা রিপোর্ট দিচ্ছে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। বিভাগীয় হাসপাতাল ও প্রতিটি জেলা হাসপাতালে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের স্পেশাল বেডের ব্যবস্থা করছি। পাশাপাশি এই মুহূর্তে ৩৬০টি বেসরকারী হাসপাতালে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। তারা যাতে আরও উন্নতমানের সেবা চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য তাদের সরকারী অনুদান দেয়া হয়েছে। সমাজ থেকে ভয়ঙ্কর মাদক দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী। তিনি জানান, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়ে ও মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশের ফলে আমাদের তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগই ধূমপায়ী। তার মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগই বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও খুনসহ রাজধানীতে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গেই মাদকের সম্পর্ক রয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু জানান, মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে না পারলে যেকোন সময় তার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মাদকাসক্তের চিকিৎসায় ব্যক্তির নিজ ও তার পরিবারের সার্বিক সহযোগিতাসহ সেবা প্রদানকারী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভাল করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি।

মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তির চিকিৎসার সব পর্যায়ে পরিবারের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এতে আরও বক্তব্য দেন মানসের সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার ও কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা রীনা প্রমুখ।

আরও পড়ুন
Loading...