মারপিটে আদিবাসি যুবকের মৃত্যু, দুই দিনেও আসামী গ্রেপ্তার নেই

বর্তমান খবর,নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ছাগলকে খোয়াড়ে দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে মারপিটে আহত যুবক সধন পাহানের (৪২) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তারামনি বাদি হয়ে গত শনিবার ৫ জনের নাম উল্লেসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় মামলার দুই দিনেও আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত শুক্রবার দুপূরে উপজেলার জামুরহাট গ্রামের মাঠে এই মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। পরে সধন পাহানের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। সধনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রামেকে নেওয়ার সময় সন্ধ্যায় হাসপাতালে চত্ত্বরে মারা যান। নিহত যুবক সধন পাহান উপজেলার আহারকান্দর গ্রামের মৃত মহর পাহানের ছেলে।

মামলায় আসামীরা হলেন, জামুরহাট গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ইসমোতারা বেগম (৪০), মানিক প্রামানিকের স্ত্রী শিউলি বেগম (৩৫), মানিক প্রামানিকের মেয়ে কাবেরী (২২), নইমুদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৪২) এবং নিমদীঘি গ্রামের লটু ইসলামের ছেলে ইমাম হোসেনসহ (৩০) অন্যান্যরা।

থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সধন পাহানের গ্রামের পাশের গ্রাম জামুরহাট গ্রামের নিজস্ব জমিতে ধান কেটে রাখেন। শুক্রবার দুপূর ১ টার দিকে জামুরহাট গ্রামের হাবিবুর রহমানের একটি ছাগল সেই কাটা ধান খায়। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ছাগলটি আটক করে সধন পাহানরে দুই ছেলে সজিব পাহান এবং সঞ্জিব পাহান ছাগলটি ধরে স্থানীয় খোয়াড়ে দেওয়ার জন্য রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় শিউলি বেগম, ইসমোতারা বেগম, কন্যা কাবেরী, জালাল উদ্দিন এবং ইমাম হোসেন তাদের ঘিরে ছাগল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় বাকবিতান্ডা এ পর্যায় ইসমোতারা বেগমগণ সজিব এবং সঞ্জিব পাহানকে চড় থাপ্পর মেরে এবং বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় সধন পাহান এগিয়ে আসলে ইসমোতারাগং তাকে বিভিন্ন ভাবে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে জালাল উদ্দিন ও ইসমোতারা ইট দিয়ে সধন পাহানের মাথায় আঘাত করলে গুরুত্বর আহত হন।

আহত অবস্থায় সধনের ছেলে ও স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় এ্যাম্বুলেন্স তোলার পরই পথে হাসাপতাল গেটেই সধন পাহান মারা যান।

নিহতের স্ত্রী তারামনি বলেন, তাদের জমি ধান খায় ছাগল। সেই ছাগলকে খোয়ারের দেওয়ার চেষ্টার সময় আমার ছেলেদের মারপিট করে। এর প্রতিবাদ করায় আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে তারা। ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের দুই দিন পার হলেও আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জেনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.