Ultimate magazine theme for WordPress.

বেনাপোলে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের…

কমলগঞ্জে স্বামীকে অচেতন করে স্ত্রীর পরকিয়ায়…

মামলা করলেন অপহরণ ও চাঁদাবাজির প্রতারক নিজেই

0 ৩৩৪

বর্তমান খবর,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ
প্রতারণা করে চা-শ্রমিকসহ দুঃস্থ মানুষজনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এক প্রতারক।

এই ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। একে তো হারিয়েছেন নিজের সর্বস্ব, অন্যদিকে নিজের নামে মামলায় হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে প্রায় তিন শতাধিক অসহায় মানুষ।

জানা গেছে,চা শ্রমিকসহ নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর তিন শতাধিক মানুষকে সঞ্চয়ের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ‘আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা’ নামে এক এনজিওর বিরুদ্ধে। প্রায় ৭ লাখ টাকা সঞ্চয় উত্তোলন করে অফিসে তালা ঝুঁলিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে এই ভুয়া সংস্থায় মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দিয়ে সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঞ্চয় উত্তোলন করে চরম বেকায়দায় পড়েছেন ভুয়া এই সংস্থার মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করা স্থানীয় তরুণরাও।

একাধিক মাঠকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরিতে যোগদান করার সুবাদে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করে প্রতিদিন বিকেলে সমস্ত টাকা বুঝিয়ে দিতে হতো সংস্থার প্রধান জেমস জেমারাককে।

স্থানীয় মাঠকর্মীরা জানান, শুধু মাঠ পর্যায় থেকেই সঞ্চয় সংগ্রহ করা হতো না বরং মাঠকর্মীদেরও বাধ্যতামূলক নিজের নামে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে হতো। ফলে প্রত্যেক মাঠকর্মীর নিজ নামেও সঞ্চয়ী হিসেবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা জমা রয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রীমঙ্গল শহরের বিরতি হোটেলের কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার পারকুল ইউনিয়নের নাসীমাবাদ চা বাগান এলাকার দিলীপ চিরান সাংখার ছেলে জেমস জেমারাক ‘আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা’ নামে কথিত ভুয়া এনজিও সংস্থা পরিচালনা করে আসছিল। কৌশলে অফিস সাজানোর জন্য কয়েকটি চেয়ার ও দুটি টেবিল বসিয়ে গড়ে তোলেন প্রতারণার ফাঁদ।

এদিকে সংস্থাটির প্রধান জেমস জেমারাক পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যক্তি প্রতারণার অভিযোগে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিন মাস পর জেমস জেমারাককে দেখতে পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা মিলে তাকে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে নিয়ে যান।

স্থানীয় বিচারকরা প্রতারক জেমস জেমারাককে সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বলেন। জেমস জেমারাকও ওই সময়ে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে টাকা ফেরত দিতে রাজি হন। বিচারকরা এক মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে পঞ্চাশ টাকা মূল্যমানের একটি স্টাম্পে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেন। এরপর প্রতারক জেমস জেমারাক সংস্থার গ্রাহক, মাঠকর্মীসহ স্থানীয় বিচারকদের বিরুদ্ধে কৌশলে আদালতে গিয়ে একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিথ্যে মামলা দায়ের করেন।

আদালত তা তদন্তের জন্য শ্রীমঙ্গল থানাকে নির্দেশ দেন। রহস্যজনক কারণে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

গান্ধিছড়া এলাকার হতদরিদ্র সন্তুষ চাষা বলেন, আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় নিয়েছে। কিন্তু ঋণ দেওয়ার কথা বলে আমাকে ঋণ তো দেয়ইনি বরং টাকা যাতে ফেরত দিতে না হয় সেজন্য উল্টো আদালতে গিয়ে আমাদের নামেই মিথ্যে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.