বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া যাবে

বর্তমান খবর : বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু অনলাইনেই নয়, শিক্ষার্থীদের হাজির করে সরাসরিও পরীক্ষা নিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্তমানে শুধু অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি আছে। ৬ মে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সংস্থাটি। এর আগে সশরীরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছিল ডিসেম্বরে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির অবনতির পর সেটি বাতিল করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউজিসির সদস্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। তিনি গনমাধ্যমকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। এ কারণে ছাত্রছাত্রীদের বৃহত্তর স্বার্থ চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এবং নিজ নিজ একাডেমিক কাউন্সিলের ভিত্তিতে সশরীরে পরীক্ষা নেয়া যাবে। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে অনলাইনেও পরীক্ষা নিতে পারবে। এ সংক্রান্ত সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন।

এদিকে আরেক বৈঠকে বৃহস্পতিবার উচ্চশিক্ষায় ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং’ বা মিশ্র শিখন পদ্ধতি (কিছু অনলাইনে আবার কিছু সরাসরি) নিয়ে আলোচনা হয়। এতে এ নিয়ে নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে এ ব্লেন্ডেড লার্নিং নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

অনলাইন ও অনসাইট এডুকেশন পদ্ধতিকে একত্রিত করে উচ্চশিক্ষায় যুগোপযোগী শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতির নীতিমালা প্রণয়ন সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ।

এছাড়া কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউিট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক ড. কাজী মোহাইমিন আস-সাকিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. ফ. ম. সাইফুল আমিন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজ্জাম্মেল হক আজাদ খান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকুল ইসলাম, ইউজিসির জনসংযোগ ও তথ্য অধিকার বিভাগের পরিচালক ড. শামসুল আরেফিন ও এসপিকিউএ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জেসমিন পারভীন যুক্ত ছিলেন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কমিশনের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি এসিউরেন্স বিভাগের পরিচালক ড. ফখরুল ইসলাম।
সভায় অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ফর হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ ২০১৮-২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে অনলাইন ও অনসাইট এডুকেশন পদ্ধতিকে একত্রিত করে উন্নত দেশের আদলে ব্লেন্ডেড লার্নিং এডুকেশন নীতিমালা তৈরি করা হবে।

কোভিড পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন কোনো প্রোগাম বা কোর্স একইসঙ্গে অনলাইন ও অনসাইট শিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়ে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। নীতিমালা প্রণয়নে নিজস্ব সংস্কৃতি, সক্ষমতা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও আন্তর্জাতিকমানের দিকে নজর দেওয়া হবে।

অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম স্বাভাবিক সময়ে সশরীরে পাঠদানের পাশাপাশি যাতে ভার্চুয়াল পাঠদান চালু থাকে এই নীতিমালায় সেদিকে খেয়াল রাখার ওপর তাগিদ দেন।

সভায় অংশ নিয়ে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যুগের চাহিদা ও কোভিড-১৯ এর কারণে অনলাইন শিক্ষা এখন সময়ের বাস্তবতা। দেশে বর্তমানে অনলাইন শিক্ষা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন নেই।

ব্লেন্ডেড লার্নিং ও অনলাইন লার্নিং নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ নীতিমালা ইউজিসিকে নতুন একটি উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্লেন্ডেড লার্নিং এডুকেশন প্রবর্তন করা এখন সময়ের দাবি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এ সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করে ওয়ার্কিং কমিটি একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করবে যা মূল কমিটি পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরি করবে।

আরও পড়ুন
Loading...