Ultimate magazine theme for WordPress.

বেনাপোলে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের…

কমলগঞ্জে স্বামীকে অচেতন করে স্ত্রীর পরকিয়ায়…

নাগরপুরে ঈদেও কামারদের মুখে হাসি নেই “কামার পাড়ায় নেই উৎসবের আমেজ”

0 ১২৩

বর্তমান খবর,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে কামারপট্টির কামারদের মুখে হাসি নেই। থেমে থেমে টুংটাং, সো-সি সি শব্দেই বলে দিচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই ঈদুল আযহা। মুসলমানদের ত্যাগের বড় উৎসব কোরবানির ঈদ। পশু জবাই ও মাংস টুকরো টুকরো করতে ছুরি, চাপাতি, দা-বটি আবশ্যক। সেগুলো প্রস্তুত করে রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর এর উপকরণ তৈরি ও শান দিতেই প্রয়োজন কামারের। পশু কোরবানির ছুরি ও চাপাতি, চাকুসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।

আবার কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত করে নিচ্ছেন। কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে, বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প। শান দেয়া, নতুন দা-বটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে ফোটা ফোটা ঘাম। চোখেমুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ, তবুও থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি থেমে থেমে চলছে কামারিরা।

মোঃ রওশন আলী(৬৫) জানান, আমি বিগত পঞ্চাশ বছর যাবত এই পেশায় আছি, ছোট কাল হতেই লেখাপড়া না শিখে এই কাজটি রপ্ত করি। সন্তানদের কোনরকমে মানুষ করেছি। বড় ছেলেটি আমার সাথেই এই কাজে সহযোগিতা করছে। করোনার কারণে বেচাবিক্রি কম ভালো নেই আমরা। বাপ-দাদার কর্মকেই ধরে রেখেছে মোঃ ইয়াকুব আলী(৬৫) এরই সন্তান হীরা কর্মকার ও কাউছার মিয়া বলেন, ‘এটা আমাদের পৈতৃক পেশা, আমিও প্রায় দুই যুগ এই কাজ করছি। প্রতি ঈদে পাইকারী দোকানী ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালই থাকে। তবে মহামারি করোনার প্রভাবে অন্যান্য বছরের চেয়ে কাজের চাপ একটু কম হলেও দিন দিন কাজের চাহিদা বাড়ছে। আগে এই সময়টায় গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হত।

আক্ষেপ করে জানান, করোনার কারণে আমাদের অবস্থা একবারে খারাপ, দুইজন কর্মচারী দোকানে কাজ করে তাদের বেতন দিতেই আমি হিমশিম খাচ্ছি। সরকারিভাবে যদি কোন সহযোগীতা আমরা পাই তাহলে অনেক উপকার হতো।

মো.আক্তার জানান,বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়। করোনার আগে প্রতিদিন দোকানে ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো। আর এখন ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা আয় করা কষ্টকর। দোকানে গড়ে ২ জন করে কাজ করতে হয়। একজন কর্মচারীর দৈনিক মজুরী ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দিয়ে কিছুই থাকে না, উল্টো লোকসান। সামনে কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে কুরবানীর পশু জবাই করার উপকরণ তৈরী ও বিক্রি করে কিছুটা সচ্ছলতার আশা করি।

দাম সম্পর্কে জানান, আকৃতি ও লোহাভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, ছুরি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, চাকু প্রতিটি প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, চাপাতি প্রতিটি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। দা-বটি, ছুড়ি শান দিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.