ধান কাটতে এসে বিপাকে দিনমজুর

বর্তমান খবর,গাজীপুর প্রতিনিধি :
ধান কাটতে এসে বিপাকে পরছেন,ঘর ছেড়ে কাজের সন্ধানে আসা,দিন মজুর,সেলিব্রেটি হচ্ছে সরকার দলীয় নেতারা।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্প্রতি বহু ছবি ভাইরাল হচ্ছে ৷ যেখানে দেখা যাচ্ছে সরকার দলীয় নেতা,এমপি,মন্ত্রীরা দলবল নিয়ে ধান কাটছেন। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে জারি করা লকডাউনে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কৃষকদের এভাবে সাহায্য করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। কিন্তু এসব ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হচ্ছে দারুন সমালোচনা।

কেউ কেউ লিখছেন,এমপি মন্ত্রীরা দলবল নিয়ে মূলতঃ ধান কাটার নামে’ফটোসেশন’করছেন। আর এটা করতে গিয়ে ধান কাটার কাজটাই ঠিকমতো করছেন না তারা,বরং কোন কোন ক্ষেত্রে কৃষকদের ক্ষতি করছেন তারা।

কৃষকদের অনেকেই অভিযোগ করেন যে ধান কাটার ছবি তোলা বা ভিডিও করা শেষ হওয়ার পরই সাহায্য করতে আসা ব্যক্তিরা চলে যান।

এদিকে জীবিকা নির্বাহের জন্য অসহায় হতদরিদ্র মানুষেরা ধান কাটার মৌসুমে,দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে কাজের সন্ধানে। গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় উড়াল সেতুর নিচেই যেন বসে যায় শ্রমবাজার বা কাজের লোকের উপচে পড়া ভির।

এমনটি লক্ষ করা যায় শ্রীপুর রেল স্টেশনেও। এযেন আগের সেই ক্রীতদাসের হাট বাজারের মত। যেখানে টাকার বিনিময়ে তারা কাজ করে এবং তাদেরকে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা ধান কাটার জন্য নিতে আসে।

অথচ বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউন এর কারণে,ঘড় ছেড়ে আসা এসমস্ত কাজের লোকগুলো অনেক সময় কাজ না পেয়ে, না খেয়ে দিন যাপন করছেন রাস্তায়। আসার সময় হয়তো অনেকে সঙ্গে কিছু টাকা নিয়ে আসে। কিন্তু দিন পরিবর্তনের এই খেলার পিছনে,আর কাজের সন্ধানে, ঘুরতে ঘুরতে এক সময় সেই টাকাটাও খরচ হয়ে যায়। যার দরুন অনেক সময় না খেয়ে রাস্তায় ঘুমাতে হয় তাদের।

তারা এক সাথে ৩ কিংবা ৫ জনও থাকে। আর প্রতি দলে একজন প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু এভাবে কাজ না পেয়ে যদি রাস্তায় দিন আর রাত কাটাতে হয় তাহলে বাড়িতে রেখে আসা পরিবারের অন্য সদস্যরা না খেয়ে মরবে বলে আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকে।

কারন তাদের উপার্জনের টাকা বাড়িতে পাঠালে,পরিবারের বাকি লোকগুলো দু-বেলা খেতে পারবে।
কাজ করতে আসা এমনই এক ব্যক্তি রহিমের সাথে কথা বলে জানা গেলো, গত দু-দিন হলো, সে মাওনায় এসেছে, এখনো কাজের কোন সন্ধান পাইনি তারা, তার সাথে আরও ৪ জন লোক। সব মিলিয়ে এখন তারা খুব কষ্টের মাঝে দিন পার করছে।

রহিম আরও জানান, প্রতিবছর এই ধান কাটার দিনে তারা কাজের উদ্দেশ্যে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে আসে। তাই বরাবরের মতই এখানে এসেছে তারা। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারনে লকডাউন আর কাজের লোক না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে নেতাদের সরনাপন্য হচ্ছে এবং ধান কাটছে। তাই হয়তো আমাগো কেউ কাজে নিতে আসেনা,এখন কাজ না পেয়ে আমরা দিশে হারা।

এদিকে কোনো থাকার জায়গা না থাকায় স্টেশনে বা ফ্লাইওভারের নিচে ঘুমাই আমরা। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমরা না খেয়ে মরে যাব। খালিহাতে বাড়ি কিভাবে যাবো ???

দেশের সার্বিক পরিস্থিত,করোনা সংক্রমণ,লকডাউন এসব মিলিয়ে মানব জীবন হয়ে পরেছে অচল প্রায়।

দেশ ও জনগনের স্বার্থে,এই সমস্ত খেটে খাওয়া মানুষদের,যারা দিন আনে দিন খায়,তাদের সবাইকে সহযোগিতা করা দরকার বিত্তবান সমাজের সকলের এবং কৃষকের ধান কাটার কাজে তাদের ব্যবহার করে উপার্জনের পথ চালু করতে হবে। এতে কৃষক আর কাজের লোক দুজনই উপকৃত হবে। হয়তো প্রশ্ন হতে পারে কৃষক টাকা কোথায় পাবে?? দেশের এই চরম অবস্থায়।!!

সমাজের যারা বিত্তবান ধনী,জনপ্রতিনিধি,সমাজসেবক আদর্শ নেতারা রয়েছেন তারা যদি সেই সমস্ত কৃষকের ধান কাটার জন্য নিদৃষ্ট অর্থ প্রদান করেন অথবা আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে কৃষককে সহযোগিতা করেন,তাহলে হয়তো তারা সেই টাকা বা সহযোগিতা নিয়ে শ্রমজীবী বা কাজের লোকদের ধান কাটার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। অন্তত দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে শত শত হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন
Loading...