দেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম গুলোর সাথে পাল্লা

বর্তমান খবর : বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স, হইচই, জিফাইভের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এদেশে ইতিমধ্যেই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ থেকে বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো প্রচুর আয়ও করছে। তাদের দেখাদেখি দেশি কিছু ওটিটি প্ল্যাটফর্মও চালু হয়েছে।

নিজস্ব প্রযোজনা দিয়ে কয়েকটি ওটিটি এরই মধ্যে দর্শকের নজর কেড়ে নিয়েছে। তবে প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুক্তি পাওয়া সিনেমার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘আই থিয়েটারে’ মুক্তি পায় বিগ বাজেটের সিনেমা ‘নবাব এলএলবি’। শাকিব খান ও মাহিয়া মাহি অভিনীত ওই সিনেমাটি বেশ আলোচনারও জন্ম দেয়। এরপর একই প্ল্যাটফর্ম থেকে মুক্তি পায় রোশান অভিনীত ‘মেকআপ, নিরব-প্রিয়মনি অভিনীত ‘কসাই’ ও রায়হান রাফির ওয়েব ফিল্ম ‘ডার্ক সাইড অব ঢাকা’।

আই থিয়েটারে দর্শকরা মাসিক,বার্ষিক ও দৈনিক ভিত্তিতে সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে সিনেমা দেখতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আজমত রহমান জানান, আই থিয়েটার চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেলেব্রিটি প্রোডাকশনের একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা প্রথমে আমাদের প্রযোজিত ‘নবাব এলএলবি’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। কোটি টাকা বাজেটের ছবি অ্যাপে মুক্তি কতটা লাভজনক ও নিরাপদ তা হয়ত একজন সাধারণ প্রযোজক বুঝতে নাও পারেন। তাই আমরা আগে আমাদের প্রযোজিত ছবি মুক্তি দিচ্ছি। আমাদের অ্যাপ চাইলে পাইরেসি করা যাবে না, কারণ আমরা ওয়েব ভার্সনে কোনো ছবি মুক্তি দিচ্ছি না। চাইলে একজন প্রযোজক তার ছবি সরাসরি আমাদের অ্যাপে টিকিট সিস্টেমে মুক্তি দিতে পারবে। আর টিকিটের দাম ওই প্রযোজকই নির্ধারণ করবেন।’

সিনেমা থেকে সাড়া কেমন আসছে জানতে চাইলে আই থিয়েটারের এমডি ও পরিচালক অনন্য মামুন বলেন, ‘আমরা কেবল শুরু করেছি। এটা এমন কোনো বিষয় নয় যে একদিন-দুইদিনেই সাড়া আসবে। আমরা দুই বছরের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছি। সেভাবেই ইনভেস্ট করছি। ফলে এখনই বলার মতো সময় আসেনি যে আমরা সফল না ব্যর্থ। তবে এতটুকু বলতে পারি যে, প্রতিনিয়ত আমাদের অ্যাপের দর্শক বাড়ছে। সেটা বেশ ভালো লক্ষণ। আমরা আশা করছি সবগুলো সিনেমার লগ্নিই তুলে আনতে পারব।’

এদিকে লাইভ টেকনোলজিসের সিনেমাটিক অ্যাপে এ বছরের শুরুতে মুক্তি পেয়েছিল জয়া আহসান অভিনীত ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘রবিবার’। এরপর মুক্তি পায় রায়হান রাফির ‘জানোয়ার’, সঞ্জয় সমাদ্দারের ওয়েব ফিল্ম ‘ট্রল’, গোলাম সোহরাব দোদুলের ওয়েব ফিল্ম ‘ডার্ক রুম’। প্রতিষ্ঠানটি বড় বাজেটের সিনেমাও মুক্তি দিতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তামজিদ অতুল দাশ গনমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি ফিল্ম পরীক্ষামূলকভাবে সিনেমাটিক অ্যাপে প্রচার করেছি। এর মধ্যে ‘জানোয়ার’ তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আমরা বিগ বাজেটের চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশাবাদী ওটিটিতে রিলিজ দিয়েই বিগ বাজেটের সিনেমার লগ্নি তুলে আনা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সূচনা করেছে মাত্র। এই মুহূর্তেই লাভ-লসের হিসাব করা ঠিক হবে না। আক্ষরিক অর্থে এর ফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। এখন কিছুটা কম হলেও দিনে দিনে যেভাবে দর্শক বাড়ছে তাতে খুব বেশিদিন লাগবে না ওটিটি মাধ্যম জনপ্রিয় হয়ে উঠতে।’

প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিগ বাজেটের ছবি মুক্তি দেওয়া নিয়ে সাধারণ প্রযোজকরা দ্বিধায় রয়েছেন। কারণ, বাংলাদেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছবি মুক্তি দেওয়ার আগের অভিজ্ঞতাগুলো তেমন ভালো নয়। ফলে প্রযোজকরা ওটিটির ওপর ভরসা করতে পারছেন না। সে কারণে আমরা সিনেমা হলগুলোর দিকেই তাকিয়ে আছি।’

আরও পড়ুন
Loading...