ন্যায্য দাবি আদায়ে “স্বাধীনতা কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন“ গঠন

বর্তমান খবর,বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ্য দেশ পরিচালনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব নেতাদের কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার কোন বিকল্প নাই।

শিক্ষার মান উন্নয়ন ও প্রসার ঘটাতে শিক্ষা মন্ত্রাণালয় নানা মুখি পদক্ষেপ নিলেও সেই সুফল পায়না শিক্ষিত মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা আর কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মধ্যে বৈষম্য চোখে পড়ার মতো। অথচ টেকসই ও মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা অর্জন,বংলাদেশকে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় কারিগরি শিক্ষার ভুমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে মান উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষাকে গতিশীল করতে জেনারেল থেকে পৃথক করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর গঠন করেন। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের খেয়াল খুশির কাছে সমগ্র বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীরা জিম্মি হয়ে পরে, বছরের পর বছর অপমান নির্যাতন অবহেলা সহ্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বারান্দায় ঘুরতে হয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না,হয়নি পিছিয়ে পরেছে কারিগরি শিক্ষা।

গত ২৩শে নভেম্বর ২০২০ কারিগরি জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করা হয় আর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করা হয় ২৮শে মার্চ ২০২১ । দুটো নীতিমালা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কারিগরি জনবল কাঠামো ও নীতিমালা চরম বৈষম্যর শিকার।

কারিগরি জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রনয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন ততকালীন কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচাল মোঃ সানোয়ার হোসাইনের মুখপাত্র সহকারী পরিচালক জহুরুল ইসলাম (এডি-৮ )এমপিও (ততকালীন) এই জহুরুল ইসলামের কাছে নির্যাতিত বা অপমানিত অথবা হয়রানির শিক্ষার হয়নি কারিগরির এমন একজন শিক্ষক কর্মচারীকেও খুজে পাওয়া যাবে না।

জহুরুলের নিদিষ্ট কিছু শব্দ আছে তার মধ্যে কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় প্রাপ্ততা নাই উল্লেখ করে প্রমাণের আগেই নিজেই নেটে প্রকাশ করে দিয়ে শিক্ষকদের পরিবারের কাছে সহকর্মী সমাজের কাছে হেও প্রতিপন্ন করে ফেলার অসংখ্য নজির আছে।অনেক শিক্ষক জহুরুলের অপমান সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতলে ভর্তি হবার নজির আছে।

শুধু শিক্ষক কেন, অফিস সহকারীরাও জহুরুলের কাছে অপমানিত হবার নজির আছে। আর মহাপরিচালক মোঃ সানোয়ার হোসাইন পুরোপুরি সহকারী পরিচালক জহুরুল ইসলাম নির্ভরশীল ছিলেন কারন মহাপরিচালক নিজে নিয়মিত অফিস করতেন না কারো সাথে দেখাও করতেন না।

মোঃ সানোয়ার হোসাইন সাবেক মহাপরিচালক

মহাপরিচালকের কাছ থেকে ক্ষমতা পেয়ে সহকারী পরিচালক জহুরুল ইসলাম ইচ্ছা মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। কোন শিক্ষক-কর্মচারী কোন আবেদন জমা দিতে এলে জহুরুলের হুকুম ছাড়া কোন আবেদন গ্রহণ করা হতো না কিন্তু যে কোন অফিসে আবেদন করার অধিকার মানুষের থাকলেও কারিগরি অধিদপ্তরে ছিল না।

অধ্যক্ষের নীচের পদমর্যদা ও পশুপালন বিষয় সনদধারী সহকারী পরিচালক জহুরুলের অপব্যবহারে অতিষ্ট হয়ে একাধিক শিক্ষক সংগঠন তাকে ও মহাপরিচালকে অপসারনের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ও কারিগরি শিক্ষা সচিবের কাছে আবেদন করেন। অবশ্য ইতি পূর্বে জহুরুলকে দুইবার বদলি করা হলেও খুব অল্প সময়েই আবার অধিদপ্তরে ফিরে আসেন,প্রথমবার এমপিওতে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পরায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এক উপদেষ্টার নাম ভাঙ্গিয়ে দুই মাসের মাথায় ফিরে আসে।

সহকারী পরিচালক ০১ (প্রশাসন ও হিসাব) মোঃ জহুরুল ইসলাম

অবশেষে শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবীর মুখে প্রথমে জহুরুল ইসলামকে (এডি-৮) এমপিও থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বর্তমানে সহকারী পরিচালক(এডি-১)(প্রশাসন ও হিসাব) আর (এডি-৮)এমপিও শাখার দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়(এডি-৭) এর সহকারী পরিচালক বিমল কুমার মিশ্রকে। কিন্তু মহাপরিচালক মোঃ সানোয়ার হোসাইন অপসারন না হওয়া আর জহুরুল ইসলাম সিন্ডিকেট শক্ত অবস্থানে থাকায় অন্য চেয়ারে থেকেও জহুরুল ইসলাম (এডি-৮) এমপিও শাখাকে নিয়ন্ত্রন করেন।

শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর শিক্ষা মন্ত্রালয় মহাপরিচালক মোঃ সানোয়ার হোসাইনকে অপসারন করে মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসি কে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দ্বায়িত্ব দেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবী বাস্তবায়ন হতে হতে শিক্ষক-কর্মচারীদের যা ক্ষতি হবার হয়ে গেছে আর অনেক দুর পিছিয়ে পড়েছে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা।

বতমান করিগরির মহাপরিচালক মোঃ হেলাল  উদ্দিন এনডিসি

বর্তমান মহাপরিচালক এমপিও শাখাকে ভাগ করেছেন। সহকারী পরিচালক বিমল কুমার মিশ্রকে ৮ থেকে সরিয়ে সহকারী পরিচালক ১১ করে চট্টগ্রাম,সিলেট,খুলনা ও বরিশাল বিভাগের এমপিও দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষক নেতার কাছে এই প্রতিবেদক জানতে চেয়েছিল আপনাদের দাবীতো পুরন হয়েছে তাহলে আবার নতুন সংগঠনের প্রয়োজন কি ? শিক্ষক নেতারা জানায়, নতুন মহাপরিচালককে আমরা স্বগতম জানিয়েছি কিন্তু কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও জটিলতা নিরসন,জনবল কাঠমো ও এমপিও নীতিমালার অসংগতি দূরীকরন সহ সৃজনশীল কারিগরি বান্ধব অধিদপ্তর ও বোর্ড প্রতিষ্ঠান ন্যায্যতায় ভিত্তিতে সম্মিলিত প্ল্যাটফরম আজ সময়ের দাবী তাছাড়া মহাপরিচালক স্যার ঠিক ভাবে কাজ করতে পারবে না যতক্ষন পর্যন্তু জহুরুল ইসলাম ও তার সিন্ডিকেট অধিদপ্তরে থাকবে।

সংযুক্ত কমকতা এমপিও শাখা- বিশ্বজিৎ দে

কারা কারা সিন্ডিকেট জানেতে চাইলে শিক্ষক নেতারা জানান বিশ্বজিৎ দে সংযুক্ত কর্মকর্তা (এমপিও) যার নামে ২০১৬ সালে এপ্রিল মাসে বরিশাল বিভাগের এইচ এস সি (বিএম) পরীক্ষার নিয়ম বহি:ভূতভাবে সংযুক্ত কর্মকর্তা পরীক্ষা পরিদর্শনে গিয়ে আতাহার উদ্দিন বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজ বাকেরগঞ্জ,বরিশাল ইসলামীয়া কলেজ বরিশাল সদর,পিরোজপুর ইসলামী কলেজ পিরোজপুর সদর,পশ্চিম সোহাগদল শহীদ স্মৃতি বিএম কলেজ,নেসারাবাদ পিরোজপুর কলেজ সমুহ থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহন করেন এবং মার্চ,এপ্রিল ও মে ২০১৬ সালে মিটিংয়ে এমপিও ভুক্ত করে দেন।

মোঃ আব্দুল মালেক গাইবান্ধা সদর এর ০৫,০৯,২০১৬ তারিখের আবেদনের পরিপেক্ষিতে ২৫,১০,২০১৬ তারিখে উপসচিব মোঃ এনামুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দেবার জন্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্তু মন্ত্রাণালয়কে তদন্ত রির্পোট দেওয়া হয়নি। এখনও বিশ্বজিৎ দে স্বপদে বহাল আছে বর্তমানে তাকে এমপিও রংপুর বিভাগের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ড. রেজা হাসান মাহমুদ
পদবি – সংযুক্ত কর্মকর্তা (আইন)

“ ড. রেজা হাসান মাহমুদ সংযুক্ত কর্মকর্তা (আইন)”
এমপিও শাখা ও আইটি সেলের কাছে নির্যাতিত শিক্ষক-কর্মচারীরা মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেও কোন সুবিচার না পেয়ে হাই কোর্টের আশ্রয় নিয়ে রীট পিটিশন দায়ের করেন এবং অন্তবর্তীন আদেশ নিয়ে পুনরায় হাইকোর্টের আদেশের কপি সহ আবেদন করেন। কিন্তু ড. রেজা হাসান মাহমুদ সংযুক্ত কর্মকর্তা আইন শাখার প্রধান মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর সেই আদেশ ফাইল বন্দি করে ফেলে রাখেন আবেদনকারীগন তাদের আবেদনের বিষয়ে জানতে গেলে রেজা হাসার মাহমুদ তাদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরন করেন। বাধ্য হয়ে আবেদনকারীগন আবার কোর্টের শরনাপন্ন হন কোর্টের আদেশ অমান্য করায় হাইকোর্ট বিভাগ অনেক মামলা স্টিলডিসপোজার করে দেন।

২০১৭ সালে এমপিওর কোড পরিবর্তনের অভিযোগে এক সাথে অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও শীটে প্রথমে ষ্টপ পেমেন্ট আসে। নিজেদের এমপিও শীটে ষ্টপ পেমেন্ট দেখে শিক্ষক-কর্মচারীরা অবাক হন,কারন জানার জন্য অধিদপ্তরে মাসের পর মাস যোগাযোগ করেও কোন উত্তর পায় না কিছু দিন পর নিজেদের অপরাধ আড়াল করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে এমপিও শীট থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে অধিদপ্তরে ডেকে এনে জোর করে জালিয়াতির স্বীকারউক্তি নেওয়া হয়।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে শিক্ষকদের এমপিও নিয়ন্ত্রন করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও শাখার আইটি সেল তাহলে কলেজে বসে থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও কোড পরিবর্তন করলো কিভাবে! সাইট হ্যাক হবার কোন তথ্যও সেই সময় জানানো হয়নি কারন সাইট হ্যাক হয়নি,তাহলে শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত হয় কি ভাবে! অথচ বিনা কারনে শিক্ষক-কর্মচারীরা সাজা ভোগ করে চলেছেন। নিরুপাই শিক্ষকরা কখনো কোর্টে কখনো অধিদপ্তরে ঘুরতে হয়।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মোঃ আতাউর রহমান প্রামানিক (শ্রীপুর রামনগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ) ও মোঃ মোসলেম উদ্দিন ( কম্পিউটার ডেমোনেষ্ট্রটর, মীর  ইসমাইল  হোসেন কলেজ, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম ) এই দুজনের কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রালয়ের এমপিও ছাড় করনের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে,  যেহেতু এমপিও শাখার আইটি সেট অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রন করেন সেহেতু শিক্ষকদের দ্বারা এমপিও কোড পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

এমপিও জালিয়াতির সাথে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জড়িত। মন্ত্রাণালয় তদন্ত করে জালিয়াতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। মন্ত্রালয়ের আদেশের কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে বলে জানা নেই। মোঃ মোসলেম উদ্দিনের হাইকোর্টের আদেশ থাকার পরেও ড. রেজা হাসান মাহমুদ তিন বছর ফাইল আটকে রেখে ছিলেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন আলাদা ভাবে নানা কর্মসুচি দিয়ে আসছিল এবার দাবী আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে গত ০৫-০৪-২০২১ তারিখে অধ্যক্ষ এ কে এম মোকসেদুর রহমান কে প্রধান সমন্ময়কারী ও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন কে আহবায়ক করে কারিগরির ১২টি সংগঠনের ঐক্যবন্ধ প্ল্যাটফরম “স্বাধীনতা কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন” নামে আত্নপ্রাকাশ করে।

সংগঠনের কার্যক্রম কি হবে জানতে চাওয়া হলে নেতারা বলেন, আমাদের নায্য দাবী নিয়ে গত ০৭-০৪-২০২১ তারিখে সকাল ১০টায় কারিগরি শিক্ষা অদধদপ্তরে অহিংস অবস্থান কর্মসুচি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সরকারের লকডাউন বা বিধিনিষেধের কারনে কর্মসুচি বাতির করা হয়েছে।

কি কি দাবী জানতে চাওয়া হলে নেতার বলেন, শিক্ষা মন্ত্রালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ প্রকাশিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (সর্বশেষ সংশোধিত ২৩শে নভেম্বর ২০২০) তারিখের কারিগরি বান্ধব সরকারের টেকসই ও মিলেনিযাম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে সুকৌশলে বন্ধের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত নীতিমালায় মাঠ পর্যায়ের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা হতাশ। প্রকাশিত নীতিমালা সর্বকালের নিকৃষ্ট ও কারিগরি বিমোখ,সরকারের সৃজনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

এ নীতিমালায় শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দকে কঠোরতম অনুশাসনের যাতাকলে কারিগরি শিক্ষার স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক পদ সৃজিত হলেও কারিগরিতে বাতিল করা হয়েছে। প্রধান হিসাবে অধ্যক্ষ বা সুপারিনটেডেন্ট পদটি প্রশাসনিক পদ হবার পরও নীতিমালা অনুশাসনে বিভিন্ন টেক বিষয়ের ও প্রশিক্ষনের বেড়াজালে আবদ্ধ করে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রমটি সরকারী ও বেসরকারী উভয় ব্যবস্থাপনায় কারিগনি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। সরকারী কৃষি জনবল ৪৩ জন পক্ষান্তরে বর্তমান নীতিমালায় বেসরকারী কৃষি ইনস্টিটিউটে প্রয়েজনীয় পদ সৃজন না করে মনগড়া ২৬ জনের কাঠামো নির্ধরন করা হয়েছে। কোর্স,কারিকুলাম সনদ একই হওয়ার পরও বেসরকারী কারিগরি বিধায় তাচ্ছিল্যের সিদ্ধন্ত গ্রহন করে কারিগরি অঙ্গনকে প্রশ্নবিদ্য করা হচ্ছে।

প্রকাশিত নীতিমালায় এইচএসসি(বিএম) শিক্ষক্রমে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা স্পেশালাইজেশনের জন্য কোন প্রভাষক রাখা হয়নি। পূর্বের প্রতিটি নীতিমালায় প্রভাষক হতে আনুপাতিক হারে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিধান থাকলেও বর্তমান নীতিমালায় সহকারী অধ্যাপক পদ বাতিল করে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতি না দিয়ে পদাবনতি করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে এমপিওভুক্তির আবেদনে ৩২ ধরনের কাগজপত্র জমা দেবার বিধান নতুন করে নীতিমালা অন্তভুক্তি কর্মকর্তাদের অযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে।

নীতিমালা সংশোধনই কি আপনাদের একমাত্র দাবী জানতে চাওয়া হলে নেতারা বলেন, আমরা সাত সদস্যর প্রতিনিধি দল মহাপরিচালক ও পরিচালকের সাথে আমাদের দাবী নিয়ে বসবো নীতিমালা সহ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে সংস্কার করতে হবে জহুরুল ইসলাম,বিশ্বজিৎ দে সিন্ডিকেট যারা তিন বছরের অধিক সময় ধরে অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন তাদের বদলি করতে হবে তারা মুলত শিক্ষক তাদেক শিক্ষকতায় ফিরিয়ে নিতে হবে।

মহাপরিচলক,পরিচালক যদি আমাদের দাবী না মানেন তাহলে ঈদের পরে আমাদের সংগঠন “স্বাধীনতা কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন”এর সংযুক্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারী কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসুচি পালন করবো। তবে আমরা আশাবাদী বর্তমান মহাপরিচালক মোঃ হেলাল উদ্দিন এনডিসি স্যার ও পরিচালক স্যার চৌকস কর্মকর্তা এবং কারিগরি শিক্ষা ও শিক্ষক বান্ধব। শিক্ষা বান্ধব সরকারের মিলেনিয়াম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের ন্যায় দাবী মেনে নিয়ে সহযোগিতা করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আরও পড়ুন
Loading...