তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের নারীসহ চার (৪) জন আহত

বর্তমান খবর,সরিষাবাড়ী প্রতিনিধিঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ২নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নির্যাতনের শিকার হয়েছে আশ্রায়ন প্রকল্পের এক আশ্রিতা নারীসহ ৪জন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় বুধবার(২৬ মে) সকালে ২নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বগারপাড় এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের আশ্রিতা জুরান আলীর ছেলে মো: শফিকুল ইসলাম একটি রান্নাঘর উঠাতে যায় আশ্রায়ন প্রকল্পের পিছনে আরেকজনের পৈত্রিক সম্পত্তি পেঁচিয়ে।

এসময় জায়গার মালিক লোকমান হোসেনের ছেলে সুমন ব্যাপারী এসে বাধা দিলে দুজনের মধ্যে বাকদন্ড শুরু হয়। একপর্যায়ে ঝগড়াবিবাদের উপক্রম হলে শফিকুল ফোন দেয় তাদের কাছে,যারা তাঁর থেকে টাকা নিয়ে ঘর উঠানোর জন্য অনুমতি দিয়েছে।

শফিকুল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বারেক ও সাধারন সম্পাদক আব্দুস সাত্তারকে ফোন দেওয়ার সাথে সাথে তাঁরা ঘটনাস্থলে চলে আসে এবং সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক দুইয়ে মিলে জায়গার মালিক সুমনকে মারধর শুরু করে।

এই দেখে সুমনের বড়ভাই সাজু মিয়া এগিয়ে গেলে তাকেও মারপিট শুরু করে। এসময় আশ্রয়ান প্রকল্পের আরেক আশ্রিতা সুমনের খালাতো ভাই আজাহার আলী ও তাঁর স্ত্রী শান্তি বেগম ছাড়াতে গেলে,তাদেরকেও বেদম মারপিট করে এবং শান্তি বেগমের গায়ের জামাকাপড় ছিড়ে বিবস্ত্র করে ফেলে বলে জানান নির্যাতিতার স্বামী আজাহার আলী। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষসাক্ষী যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তুম আলীর একমাত্র সন্তান মনির উদ্দিন মনি জানান, এই ২নং পোগলদিঘা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছিন্নমূল ও অসহায় হতদরিদ্র মানুষগুলোর উপর সর্বত্রই জুলুম ও নির্যাতন করে আসছে। তাঁরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অসহায় দুঃস্থ গরীব মানুষদের সবসময় ভয়ভীতির মধ্যে রাখেন এবং কেউ কিছু বলতে গেলে এইভাবেই তাদের উপর নির্যাতন চালায়।

মনির উদ্দিন আরও জানান,আশ্রয়ন প্রকল্পের এই ঘরগুলো ১০ হতে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিয়ে নিতে হয়েছে এই গরীব অসহায় মানুষগুলোর। যার বাস্তবতা মিলে শফিকুলের স্ত্রী খালেদার কথা অনুসারে।

সে মিডিয়ার সামনে জানায় সভাপতি আব্দুল বারেক ও সাধারন সম্পাদক সাত্তারকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরবাবদ ৪০ হাজার এবং আলাদা রান্নাঘর উঠানো জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছে তাঁরা।

অপরদিকে আহত আজাহার আলী জানায় সে ঘর বাবদ ২৫ হাজার টাকা চুক্তি করে ২০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করেছে এবং বাকি ৫ হাজার টাকা দিতে পাচ্ছেনা বলে ঘর থেকে নামিয়ে দেওয়া হুমকি দিচ্ছে বারেক ও সাত্তার।

আশ্রিতাদের এ তথ্যমতে অনুসন্ধানে জানা যায়, পোগলদিঘা ইউনিয়নে বগারপাড় এলাকায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক ভূমিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ক-শ্রেণি পরিবারের জন্য দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি-পাকা একক গৃহ নির্মাণ করে বিনামূল্যে উপহার দেওয়া কথা ছিল। কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় বাস্তবে তা মেলেনি। আশ্রিতদের কাছ থেকে প্রতিটি ঘর বাবদ ১০ হতে ৪০ হাজার টাকা করে নিয়েছে এই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক।

ব্যাপারে ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক ফারুক জানান,আব্দুল বারেক ও আব্দুস সাত্তার এরা দুজনেই দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। সমাজে এমন কোন অপকর্ম নেই তাঁরা না করে। শুধু আশ্রায়ন প্রকল্প নয় ,তাঁরা বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও ভিজিডিসহ শিশু ভাতার কার্ডেও অসংখ্য লোকের কাছ থেকে ৮ /১০ হাজার টাকা করে নিয়েছে।

তিনি আরও জানান,আমি একজন দলীয় কর্মী হিসেবে এ অপকর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এসমস্ত অসৎ,দুর্নীতিবাজ,জুলুমকারীদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে দল থেকে বহিস্কার করার দাবি জানাই।

এবিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রকিবুল হক জানান, মারামারি’র কথা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম কিন্তু এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
Loading...