টেন্ডারের নামে নিয়ে যাওয়া লিচু বস্তাবন্দি ফেরত

বর্তমান খবর,কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
সরকারি টেন্ডার ছাড়াই লিচু যাচ্ছে কোথায়? হবে কী টেন্ডার? না হবে পেটস্থ? এমন নানা প্রশ্ন উঠেছিল জনমনে। এখন সেই ঝিনাইদহ এসিল্যান্ড অফিসে টেন্ডার করতে নিয়ে যাওয়া বস্তা ভর্তি লিচু রাতের আধাঁরে বাগান পরিচর্যাকারীর উঠানে রেখে যাওয়া হয়।

এ বিষয়কে কেন্দ্র করে একে অপরের বিতরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া গেলেও ঝিনাইদহ সদরের এ্যাসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ-আল-মামুনসহ তার অফিসের লোকজন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্যারের প্রটোকলে ব্যস্ত ছিলেন বৃহস্পতিবার এমন বক্তব্য তিনি সাংবাদিকের নিকট দিয়েছেন।

গত বুধবার (১৯ মে) দুপুর থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত ঝিনাইদহ ভূমি অফিসের নাজির ও স্থানীয় ভূমি অফিসের নায়েব ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এ লিচু ছেড়া হয় সদর এ্যাসিল্যান্ড অফিসের টেন্ডারের জন্য। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা কালীকা দোহার পূর্ব সংলগ্ন স্থানটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৬৫৬ সালে রাজ পরিবারের কালীকা দোহাটি ৯ একর ৯ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কালীকা দোহার পূর্ব পার্শে¦র কোল ঘেঁষে প্রয়াত নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের সাধারন সম্পাদক অতুল অধিকারীর ১০৬ টি লিচু গাছ রয়েছে। যার মধ্যে দোহার কোল ঘেষে ৪ শতক জমির উপর ১৩টি গাছ। যাহা সিদ্ধেশ্বরী কালিকা দোহা সম্পত্তির অধীনে। দীর্ঘ সময় ধরে এই স্থানটিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

লিচু ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার মোঃ আইনাল হক ও নলডাঙ্গা ভূমি অফিসের নায়েব জানান, স্যারের নির্দেশে প্রতিটি পদক্ষেপ আমরা চলেছি। স্যারের বাইরে কিছুই হয়নি।

প্রয়াত অতুল অধিকারীর ছেলে পঙ্কজ অধিকারী অভিযোগ করেন, রাতে আমার উঠানে কে বা কাহারা বস্তাবন্দি লিচু রেখে যায়। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না কিন্তু লুট করে নিয়ে যাওয়া অর্ধেক লিচু উঠানে পেয়েছি।

গত বুধবার দেওয়া বক্তব্যে ঝিনাইদহ সদর এসিল্যাড আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, যাদের লিচু গাছ তারা লিচু খাবে? কোন টেন্ডার হবে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাকে জানাচ্ছি।

ইতিমধ্যে নিউজ কভার করা সাংবাদিকের খোজ খবর নিতে শুরু করেছে সদর এ্যাসিল্যান্ড। স্যার না বলে ভাই সম্বোধন করাই তিনি বেজায় অখুশী।

আরও পড়ুন
Loading...