চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা, প্রযোজনা, সম্পাদনা, মেকআপসহ নানা টেকনিক্যাল কাজ শেখার জায়গা নেই – মোশাররফ করিম

বর্তমান খবর : ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের বেশকিছু নাটক এবার ঈদে পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। বিশেষ করে তানজিন তিশার সঙ্গে প্রথমবার পর্দায় এসে দর্শকদের দারুণ একটি নাটক উপহার দিয়েছেন এ অভিনেতা।

সাগর জাহানের পরিচালনায় এ নাটকের নাম ‘শেষটা অন্য রকম ছিল’। এছাড়া ফারিয়া শাহরিনের সঙ্গে ‘সাদা মানুষ’ নাটকটিও প্রশংসা পাচ্ছে। ঈদের পর কাজে ফিরেছেন মোশাররফ করিম। একটা ওটিটির ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং শেষ করেছেন। তবে এখনই তা নিয়ে একদম কথা বলা যাবে না। তাই ঈদের কাজের প্রসঙ্গেই ফিরতে হলো। বলছিলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরেই কমেডি নাটকের চেয়ে সিরিয়াস গল্পের নাটকে বেশি কাজ করছি। এবার যে নাটকগুলো দর্শকের ভালো লেগেছে সেগুলোও কিন্তু তথাকথিত কমেডি নাটক নয়।

গল্প ও চরিত্রগুলোয় নতুনত্ব ছিল। তারপরও সেগুলো দর্শক গ্রহণ করায় আশা আরও বেড়ে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে দর্শক আগের চেয়ে আরও সচেতন হচ্ছে। তারা এখন গৎবাঁধা কাজ দেখতে চায় না। এবার ঈদে খানিকটা তেমন আভাসই পেলাম। শুধু আমার নয়, আরও যে কাজগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে সেগুলোও বেশ অন্যরকম কাজ।’

মোশাররফ করিম আরও বলেন, ‘অস্বীকার করা যাবে না, আমরা সবসময় নানা সংকটকে সঙ্গী করে নাটক করি। কিন্তু এখন দর্শকদের সামনে অনেক দরজা খোলা। তারা চাইলে ভারতীয় কনটেন্ট বা হলিউডের মারদাঙ্গা সিনেমা দেখেও ঈদ উৎসব কাটাতে পারেন। কিন্তু এসব খোলা ময়দানে দর্শক গরম ভাতের গন্ধ, কাল্লু সুইপার, কঙ্কাল চোর, সাদা মানুষ, সীমার নাটকগুলো দেখেছেন। ইউটিউবে ট্রেন্ডিংয়ে চলছে “শেষটা অন্য রকম ছিল”। মাত্র চার দিনে প্রায় ৪০ লাখ দেখা হয়েছে এ নাটক।

এটাকে আমি বলব দর্শকদের দেশপ্রেম। আমরা একটা অপেশাদার জায়গায় অল্প বাজেটে কাজটাকে ভালোবেসে করি, নির্মাতারাও ভালোবেসে বানান আর দর্শকও ভালোবেসে দেখেন। দর্শকদের আমার বা আমাদের এসব নাটক দেখাকে, ভালো-মন্দ আলোচনা করাকে আমি দেশপ্রেম ছাড়া আর কী বলব?’

আপনার মতে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় সংকট কী? এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘এটা তো একটা প্রক্রিয়াগত ব্যাপার। সেই প্রক্রিয়ার খুবই জরুরি আর প্রাথমিক একটা স্তম্ভ হলো ইনস্টিটিউশন। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখার জায়গার তীব্র অভাব। থিয়েটারের মাধ্যমে হয়তো অভিনয়শিল্পী তৈরি হচ্ছে কিছু। কিন্তু চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা, প্রযোজনা, সম্পাদনা, মেকআপসহ নানা টেকনিক্যাল কাজ শেখার জায়গা নেই।

তাছাড়া থিয়েটারগুলোও ঢাকাকেন্দ্রিক। তাহলে মফস্বলের মানুষ কোথায়, কীভাবে অভিনয় শিখবে? এটা তো একটা ব্যাপার। আরেকটা হলো শিল্পের সঙ্গে বসবাস, একটা সুদীর্ঘ পথ। চট করে ফলাফল চাইলে হবে না। থিয়েটার তো ছয় মাসের কোর্স, এক বছরের ব্যাপার নয়। এটা একটা জীবনযাপন পদ্ধতি। আজ শট দেব, কাল হিট হবে; পরশু নাম, টাকা কামিয়ে তারকা হবো এভাবে হয় না। যারা এ কাজগুলো প্রাণের তাগিদে করে, আনন্দের জন্য করে, শুধু তাদেরই থাকা উচিত।’

এদিকে সীমানা পেরিয়ে ভারতের কলকাতায়ও দারুণ জনপ্রিয় মোশাররফ করিম। ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘ডিকশনারি’ মুভিটি মুক্তির পর সেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে অন্য মাত্রা। ব্রাত্য বসুর পরের মুভিতেও অভিনয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তার। এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, ‘আমি যখন ডিকশনারির শ্যুটিং করি, তখনই পরিচালক আমাকে তার পরের মুভিতে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ই আমি গল্প শুনি। হুগলির গ্যাংস্টার হুব্বা শ্যামলের বায়োপিক।’

দুই বাংলার কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ তারকা অভিনেতা বলেন, ‘বাংলাদেশেই একেক পরিচালকের কাজের স্টাইল একেক রকম। কেউ হয়তো খুবই গুছিয়ে কাজ করেন। আবার এমন পরিচালক আছেন, যিনি শ্যুটিংটা হয়তো খুব গুছিয়ে করছেন না। কিন্তু মনে মনে গল্প বা চরিত্রের ব্যাপারে খুব গোছানো, পরিষ্কার। তাই মোটা দাগে বলা যাবে না যে এই বাংলায় এরকম, ওই বাংলায় সেরকম।’

আরও পড়ুন
Loading...