গ্রাহকের ৭ লাখ টাকা নিয়ে ভূয়া এনজিও উধাও

বর্তমান খবর,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ
গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া এক এনজিও। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম এবং দরিদ্র অসহায় আদিবাসী চা শ্রমিকদের প্রায় ৭ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে একটি ভুঁইফুর ভুয়া এনজিওর প্রধানসহ অন্যান্য কর্মচারীরা ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট কালীঘাট জাম্বুড়াছড়া,আমরাইল চা বাগান,হুগলিয়া ছড়া,হাতিমারা,১৬ নং বস্তিসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশত হতদরিদ্র মানুষের কাছ থেকে আনুমানিক প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি ভুয়া বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)।

বড় অংকের ঋণ দেয়ার কথা বলে সঞ্চয়ের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সংস্থাটির কর্ণধার জেমস জেমারাক নামে এক ব্যাক্তি । শুধু গ্রাহকের টাকাই নয় এই সংস্থায় কর্মরত স্থানীয় সকল মাঠকর্মীদেরও ঋণ দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের সঞ্চয় আদায় করার এক পর্যায়ে অফিস গুটিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত জেমস জেমারাক।

এতে করে এই সংস্থায় কর্মরত সকল মাঠকর্মীরাও পড়েছেন প্রচন্ড বিপাকে। একদিকে চাকুরী নেই উপরন্তু গ্রাহকদের চাপে চরম হতাশা আর আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন মাঠকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক বছর আগে শ্রীমঙ্গল শহরের বিরতি হোটেলের কক্ষ ভাড়া নিয়ে ১২ জন মাঠকর্মী নিয়োগ করে বড় অংকের ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উপজেলার বেশিরভাগ গ্রাম বিশেষ করে দরিদ্র চা শ্রমিক গুষ্টিকে টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে সঞ্চয় আদায় শুরু করেন আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা নামে ভুয়া একটি এনজিও সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ টাকা সঞ্চয় আদায় করার এক পর্যায়ে গ্রাহকরা যখন ঋণ দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন ঠিক তখনি সুযোগ বুঝে অফিসে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন সংস্থাটির প্রধান জেমস জেমারাক।

সম্প্রতি ঋণ নেয়ার জন্য গ্রাহকরা অফিসে এসে অফিস বন্ধ দেখে হতাশায় ভেঙে পড়েন শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিনশতাধিক নারী-পুরুষ এবং তরুণ।

জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রীমঙ্গল শহরের বিরতি হোটেলের কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নেন চুনারুঘাট উপজেলার পারকুল ইউনিয়নের নাসীমাবাদ চা বাগান এলাকার দিলীপ চিরান সাংখার ছেলে জেমস জেমারাক। আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা নামে কথিত সংস্থার নির্বাহী পরিচয়ে শ্রীমঙ্গল শহরের বিরতি হোটেলের কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নেন।

কৌশলে অফিস সাজানোর জন্য কয়েকটি চেয়ার ও দুটি টেবিল বসিয়ে গড়ে তোলেন প্রতারণার এক মহা ফাঁদ। জেমস জেমারাক খুব কৌশলে স্থানীয় তরুণদের লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের বেতন ও ঋণ সুবিধা দেয়ার কথা বলে তাদের নিয়োগ দেন।

সরল বিশ্বাস আর লোভনীয় প্রস্তাবে স্থানীয় প্রায় ১২ জন তার কথিত এই সংস্থায় মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন। এক পর্যায়ে দরিদ্র আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনকেও একই কায়দায় বড় অংকের ঋণ দেয়ার কথা বলে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে এবং খোদ নিজেও মাঠে গিয়ে সঞ্চয় আদায় শুরু করেন।

দু একজনকে লোক দেখানো ঋণ দিয়ে প্রায় এক বছর ধরে তিনশ’র বেশি গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সঞ্চয় আদায় করেন। এক পর্যায়ে গ্রাহকদের সন্দেহ হলে তারা সকলে একত্রিত হয়ে ঋণের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তাঁর লোকজন শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে জেমস জেমারাকের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রামে গ্রামে ইউনিট করে সমিতি গঠন করে।

স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার নামে একটি পাস বই দিয়ে সঞ্চয় গ্রহণ করেন তাঁরা। গান্ধিছড়া এলাকার ৬৫ জন,আমরাইলছড়া চা বাগান এলাকার ২০ জন,জাম্বুড়াছড়া এলাকায় ৪২ জন,হুগলিয়াছড়া এলাকার ৪৫ জন,হাতিমারা এলাকার ৬৫ জন,রাজঘাট চা বাগান এলাকার ৭২ জন,১৬ নং বস্তি এলাকার ৪২ জন,প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা সঞ্চয় আদায় করেন।

সম্প্রতি সমিতির সদস্যদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কথামতো ঋণ নিতে আসেন বিভিন্ন গ্রামের প্রায় তিনশো মানুষ। সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে থেকে দেখা মেলেনি কথিত ঐ সমিতির প্রধান জেমস জেমারাক সহ সমিতির লোকজনের। এ সময় তাঁদের মোবাইল ফোন চেষ্টা করেও তার ফোন বন্ধ পান ভুক্তভুগীরা।

গান্ধিছড়া এলাকার হতদরিদ্র সন্তুষ চাষা বর্তমান খবরকে বলেন, ‘আমার কাছে থেকে ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় নিয়েছে। কিন্তু ঋণ দেয়ার কথা বলে আমাকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তিনি বলেন আমাকে ঋণ নেয়ার জন্য আসতে বলে অফিস তালা মেরে পালিয়ে গেছে তারা।’ একই এলাকার পঞ্চমী তংলা,পুতুল দাশ,মাধুরী দাশ,শিমা গোয়ালা সহ আরো শত শত লোক প্রতারণার শিকার হন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন , এ ধরনের কোনো এনজিও আছে বলে আমার জানা নেই। এমনকি ঋণ দেওয়ার নাম করে সঞ্চয় হাতিয়ে নিয়েছে—এমন কোনো খবরও আমার কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোয়েব চৌধুরী বর্তমান খবরকে বলেন,এই সংগঠনের ঋণ দেয়ার কোনো পারমিশন নেই।’ আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি দ্রুতই আমরা একটা বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ।’তিনি বলেন,ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকদের প্রতি আমার উপদেশ থাকবে,এই ভুঁইফুর সংগঠনের বিরুদ্ধে তারা যেন দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন প্রয়োজনে আমরা তাদের সার্বিক সহযোগীতা করবো ।’

আরও পড়ুন
Loading...