গাজীপুরের পারুলি নদীর ২২ কিলোমিটার খনন কাজ চলছে দ্রুতগতিতে

বর্তমান খবর, শ্রীপুর প্রতিনিধি  ঃ গাজীপুর-৩ আসনের  শ্রীপুর উপজেলাধীন রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইজ্জতপুর থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়ন ও বেলাই বিল হয়ে পূবাইল পর্যন্ত ২২কিলোমিটার পারুলি নদী খননের কাজ চলছে।

গাজীপুর ৩ আসনের মাননীয় সাংসদ জননেতা ইকবাল হোসেন সবুজ (এমপি), মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নানা ধরনে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নদী খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন সরকার। তারই ধারা বাহিকতায় নদী খনন  প্রকল্প কাজ চলছে গাজীপুর ৩ আসনে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে পারুলী নদীতে একসময় বড় বড় বোয়াল, চিতল মাছ লাফ দিয়ে চলমান নৌকায় উঠে আসার মতো ঘটনাও ঘটতো। আজ সেই নদী হারিয়েছে তার যৌবন, হারিয়েছে ঐতিহ্য। এই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এখন নৌ-পথ বন্ধ হয়ে গেছে।  এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এলাকার ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে জেলেরা হারিয়েছে তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া মাছ মারা পেশা আর কৃষকেরা বঞ্চিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা হারিয়েছেন নানা কাজ। যেমন কাপড় কাচা, গোসল করার সুযোগ। শুকনো মৌসুমে গ্রামীন নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর এখন বেহালদশা। শুকনো মৌসুমে মরা গাঙে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ দিন দিন কমতে থাকায় পারুলী নদী দিয়ে নৌকা এখন আর চলে না। দেশের নদী খনন অত্যন্ত জরুরি। তার কারণ আমাদের ২৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথের মধ্যে এখন মাত্র ৫ হাজার কিলোমিটার নদীপথ আছে। বাকি ১৯ হাজার কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে পড়ায় তাতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।সরকার ইতিমধ্যে ৮০০ কিলোমিটার নদীপথ খননের কাজ হাতে নিয়েছিলেন। এখন বড় প্রকল্পগুলো হাতে নেয়ায় নদীর নাব্যতা ফিরে পাবে এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নদীপথের বিকল্প কিছুই হতে পারে না।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীপথ অধিকতর সহজ এবং নিরাপদ। তাই রাষ্ট্রের এ প্রকল্পগুলো যাতে করে দেশের রাঘব-বোয়ালরা কাজ না করেই তাদের পেটে প্রকল্পের টাকা ঢুকে না যায় সেটা আগে নিশ্চিত করা জরুরি।

এক সময় নদীকে কেন্দ্র করে হাট-বাজার বসতো। তার কারণ ছিল নদীপথে পরিবহনের সুবিধা। কিন্তু বর্তমান সময়ে সড়কপথের যতোই উন্নতি করা হোক না কেন নদীপথের স্থান দখল করতে পারেনি। দীর্ঘ কয়েক যুগে নদীপথের দিকে সরকারের দৃষ্টি কম থাকায় বর্তমানে এক্ষেত্রে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। অনেক নদী মরে গেছে। যা বর্তমানে টিকে আছে তাও এখন ভরাট হয়ে সরু খালের দশায় উপনীত হয়েছে।

অনেক এলাকায় নদী মরে যাওয়ার কারণে কৃষিকাজের জন্য সেচব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তাই নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার নদীকে সচল করার লক্ষ্যে শুধু মেগা প্রকল্প গ্রহণ করছেন। শুধু নদী খনন করলেই চলবে না। নিতে হবে নদীর শাখা-উপশাখা খননের প্রকল্প। কারণ নদীর শাখা-উপশাখা না থাকলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিরানভূমিতে পরিণত হবে। তাতে করে কৃষক ফসল ফলাতে পারবে না। দেশের জিডিপির বড় অংশই আসে কৃষকের কাছ থেকে। উত্পাদন ভালো হলে দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে। তাই নদী খননের পাশাপাশি খাল খননেরও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আরও পড়ুন
Loading...