গডফাদার কে ? কাউন্সিলর মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডল এর

বর্তমান খবর,বিশেষ প্রতিনিধি :
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে এখন যদি ৪৫ বছরের মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডল ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে বলে, আমি টাঙ্গাইল এলাকায় সক্রিয় মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখায় তাহলে মোন্তাজ উদ্দিনের কথা আপনি অবিশ্বাস করলেও আবাক হবেন না।

কথা গুলো ভবিষৎবাণী হলেও বাস্তবে রুপ দিতে কাউন্সিলর মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডলের হয়তো বেশী সময় লাগবে না। সুবিধাবাদি মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডল মনে প্রাণে বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন,বর্তমানে আছেন যদিও এখন মুজিব কোর্ট পরে নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মি দাবী করেন।

মুখোসধারী কাউন্সিলির মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডল মুজিব কোর্ট গায়ে দিয়েও অন্তরের বিএনপির প্রতি ভালোবাসা লুকিয়ে রাখতে পারেননি। গত মার্চে নিজে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ভাংচুর করে ত্যাগী এরং মোন্তাজের অন্যায়ের প্রতিবাদ কারী আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের ফাঁসনোর চেষ্ঠা করেন।

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের খবর শুনে কাশিমপুর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর আশরাফুল আলম আসকর দ্বায়িত্ব নিয়ে কাশিমপুর থানার ওসি কে বলেন,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কোন নেতা কর্মি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংগতে পারে না আপনি অতি গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টা তদন্ত করে দেখেন।

পুলিশ তদন্তে বেড়িয়ে আসে কাউন্সিলর মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডল নিজে ছবি ভাংচুরের নাটক সাজিয়েছিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য কিন্তু অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে মোন্তাজের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কাউন্সিলর মোন্তাজের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে এলাকায় গিয়ে কাউন্সিলর অফিসে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ভাঙ্গা ছবি ঝুলতে দেখা যায়। অফিস কর্মচারীর কাছে কাউন্সিলরের সাথে দেখা করার কথা জনালে তিনি বলেন, স্যার কখন অফিসে আসবে আমি জানিনা আপনার মোবাইলে যোগাযোগ করেন। অনেকবার চেষ্টার পর কাউন্সিলর মোবাইল ধরে বলে আমি ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর বাসায় ফিরতে দেরি হবে।

জানতে চাওয়া হয় আপনিতো বিএনপির সক্রিয় সদ্স্য কিভাবে কার মাধ্যমে এবং কবে আওয়ামীলীগে যোগদান করলেন এখন মুজিব কোর্ট পরে জমি দখল,চাঁদাবজি সহ নানা অপকর্ম করছেন এই দায় ভার কি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নেবে। প্রশ্ন শুনে মোবাইল সংযোগ বিছিন্ন করে দেন এরপর বারবার চেষ্ঠা করেও আর মোবাইল রিসিভ করেন নাই।

সাবেক কাশিমপুর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মৃত সেদু মন্ডলের ছেলে মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সহ বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর মিছিল-মিটিং-জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে রাজপথ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করে নাশকতা চালান বিএনপির নেতা কর্মীরা। ঐ ঘটনায় টঙ্গি থানার এসআই আল আমীন বাদী হয়ে মোন্তাজ সহ ১০০ বিএনপির নেতা কর্মীরর বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা (নম্বর ১১(৫)১৮) করেন।

দীর্ঘ তদন্তের পর সেই মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডর এ মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামী। ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশ করে প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন মিল-কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রন,অবৈধ্য গ্যাস সংযোগ দিয়ে রাইজার প্রতি মাসিক ৫০০ টাকা আদায় করছেন,চাঁদাবাজী করে চলেছেন লতিফপুর-চক্রবতী সড়কের অটোরিকশা ও বিভিন্ন গাড়ী থেকে এছাড়া জমি দখলের ক্ষেত্রেও পারদর্শী মোন্তাজ।

মোঃ হিরার অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় তার মায়ের সম্পত্তি জোর করে জবর দখলে চেষ্ঠা চালায়। গত ৩ মে মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডল তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে কেএসি ফ্যাশন ওয়্যার লিঃ জোর পূর্বক ঢুকে ফ্যাক্টরীর পরিচালক আহমেদ জান চৌধুরীর কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে,পরিচালক চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মোস্তাক পরিচালককে চাঁদা দিতে বাধ্য করার চেষ্ঠা করে পরিচালকের চিৎকারে ফ্যাক্টরীর শ্রমীকরা মোস্তাক ও তার কয়েকজন সঙ্গীকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।

পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থীতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ৫/৫/২১ তারিখে ফ্যাক্টরীর জিএম (প্রজেক্ট) ইসতিয়াক আহমেদ চৌধুরী বাদী হয়ে কাউন্সিলর মোস্তাক উদ্দিন মন্ডলকে ১ নম্বার আসামী করে কাশিমপুর থানায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোর্ডের ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩২৩/৩৪১/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪ ধারায় মামলা করেন। কাশিমপুর থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রফেসর আশরাফুল আলম আসকরের কাছে মোস্তাক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন ৪৪ বছর ধরে রাজনীতি করি সেই ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু এখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ্য নেতৃত্ব মেনে চলি আর মোন্তাজের মতো অনুপ্রবেশকারীরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে মুজিব কোর্টের মতো একটি আদর্শ কোর্ট গায়ে দিয়ে নির্বিচারে দূনীতি করে যাচ্ছে একা মোন্তাজের নামে যত মামলা পুরো গাজীপুর সব ওয়ার্ডের সব কাউন্সিলর মিলেও তত মামলা নাই।

তাহলে মোন্তাজের মতো একজন সক্রিয় বিএনপির কর্মীকে দলে যোগদান করালেন কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপনারা সাংবাদিক একটু খোজ নিলেই জানতে পারবেন কার প্রশ্রয়ে মোন্তাজের মতো লোকেরা দলে ঢুকেছে কে তার আশ্রয় দাতা।

একই বিষয় নিয়ে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্ল্যা খানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি অকপটে কাউন্সিলর মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডলের অপকর্মের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি মোন্তাজের দূনীতি, জবর দখল, চাঁদাবাজীর কথা শুনেছি আর দলে যোগদানটা স্থানীয় ভাবে হয়ে থাকে কাশিমপুর ইউনিয়ন ছিল এখন সিটিকর্পোরেশন হয়েছে।

কাশিমপুরে আওয়ামীলীগের কোন নির্বাচিত কমিটি নাই খুব তাড়াতাড়ি নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হবে তখন ব্যবস্থা নিবো। এলাকার একাধিক নির্যাতিত ব্যাক্তি প্রতিবেদকের কাছে জানিয়েছেন তারা কাউন্সিলর মোঃ মোন্তাজ উদ্দিন মন্ডলে হাত থেকে মুক্তি চায় – আর এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরও পড়ুন
Loading...