কালীগঞ্জে বেড়েছে পাট চাষ

বর্তমান খবর,কালীগঞ্জ(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ
মাঠের দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায় সবুজের সমারহে। গ্রামের পিচ ঢালা পথ আর পাট গাছের সবুজ ক্ষেত যেনো মন কেড়ে নেয়। দাম বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছরে তুলনায় পাট চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন। আগামীতে পাট চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এবার ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা মণের পাট দাম বেড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে ফলে ধান, চাল, গম, ভূট্টা, সার ও চিনির বস্তা হিসেবে বাধ্যতামূলক পাটের বস্তা ব্যবহারে তৎপর হয় সরকার। এতে করে পাটের দাম আরো বেড়ে যায়।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এভাবে পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুই বছরে বেড়েছে পাট চাষও। এখন কৃষকরা চলতি মৌসুমের পাটের জমি পরিচর্যার ব্যস্ত সময় পার করছেন। জমিতে সেচ দেওয়া, জমিকে আগাছা মুক্ত করা, সময় মতো সার প্রযোগ প্রভৃতি পরিচর্যা করছেন।

উপজেলার নগর চাপরাইল গ্রামের পাট চাষি জাবের মন্ডল জানান, গত বছর মাত্র ১৮ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম এবার পাটের দাম ভালো হওয়াতে দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি খোবের সাথে জানান উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাট চাষের জন্য কোনো সহযোগিতা তিনি পাননি। তবে অন্য ফসল চাষে তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান ওই কৃষক।

একই গ্রামের কৃষক নওশের আলী জানান, তিনি এবার ১বিঘা ১১ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছেন। আশা করছেন দাম ভারো পাবেন। ষাটবাড়িয়া গ্রামের পাট চাষি কবিরুল ইসলাম নান্নু জানান, গতবছর আমি পাট চাষ করিনি কিন্তু এবার পাটের দাম বেশি হওয়াতে ২বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি আশা করি ফলন ও ভালো হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় আমরা ২৫জন কৃষকের প্রদর্শনী দিয়েছি। প্রত্যেক কৃষককে সার, বীজ, ও ক্ষেত পরিচর্যার জন্য ২৫শ করে টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চায়লে তিনি জানান, আমাদের প্রয়োজন ৩৪ জন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সেখানে মাত্র ১২জন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আছেন। জনবল কম থাকার কারনে আমরা সবার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারি না। তবে কৃষক মাঠ স্কুল থেকে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও ফসলের রোগ বালাই সম্পর্কে সচেতন করে থাকি। মাঠ দিবসেও আমরা কৃষকদের সাথে তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা আলোচনা করে থাকি। কোনো কৃষক যদি তার কোনো অসুবিধার কথা আমাদের জানান তাহলে আমরা সাথে সাথে তার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকি।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিকদার মোঃ মোহায়মেন আক্তার জানান, গতদুই বছরের তুলনায় এবার পাটের চাষ অনেক বেশি হয়েছে। ১৮-১৯ অর্থ বছরে পাট চাষ হয়েছিলো ১৩শ ৪০ হেক্টর , ১৯-২০ অর্থ বছরে পাট চাষ হয় ১৫শ হেক্টর, সে তুলনায় ২০-২১ অর্থ বছরে পাট চাষ বেড়ে দাড়ায় ১৮শ ১৯ হেক্টর। পাটের দাম ভালো পাওয়াতে কৃষকদের পাট চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ছে বেশি।

আরও পড়ুন
Loading...