কারিগরি শিক্ষক- কর্মচারীবৃন্দের এমপিও জটিলতা নিরসনসহ কারিগরি বিদ্বেষী কর্মকর্তাবৃন্দের অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

১২ নভেস্বর ২০২০ ইং ঃ  বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান উন্নয়ন বান্ধব সরকারের ভিশন-২১ ও রুপকল্প-৪১ বাস্তবায়নপূর্বক শিক্ষা বান্ধব সরকারের টেকসই ও মিলেনিয়াম উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কারিগরি শিক্ষা – জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করে।

বাংলাদেশ যখন সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় ক্রমবর্ধমান, ঠিক তখনি একটি অশুভ শক্তির অপতৎপরতায় দক্ষ জনশক্তি তৈরীর কারখানা হিসেবে খ্যাত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক- কর্মচারীবৃন্দ নিজেদের শ্রম, মেধা, অর্থ ও সম্পদ দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ দীর্ঘদিন যাবৎ বিনা বেতনে শিক্ষাদান ও দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের মডেল প্রতিষ্ঠার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার পর সম্প্রতি দেশে মোট ৪৮৩ টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের যুগান্তকারী হস্তক্ষেপে এমপিওভুক্ত হলেও কারিগরি বিমূখ অশুভ চক্রের অপতৎপরতায় এমপিও ভুক্তির আবেদন যাচাই করে অনাকাংখিত, স্পর্শকাতর ও হাস্যকর ফাইন্ডিস /ত্রুটি চিহ্নিত করা সাপেক্ষে প্রায় ৩,০০০ (তিন হাজার) কারিগরি শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দকে এমপিও বঞ্চিত করা হচ্ছে।

ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ধারার নিয়ামক শক্তি কারিগরি শিক্ষা ও কারিগরি ব্যবস্থার প্রতি সারাদেশে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরীতে কোন বিশেষ মহলের অশুভ ও অপতৎপরতা রোধে এমপিও বঞ্চিত কারিগরি শিক্ষক – কর্মচারীর পক্ষে- “বাংলাদেশ কারিগরি (বিএম) অধ্যক্ষ সমিতি” সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় ধাবিত ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বায়নের উপযোগী হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষে কারিগরি শিক্ষক- কর্মচারীবৃন্দের এমপিও জটিলতা নিরসনসহ কারিগরি শিক্ষা অধিদ্প্তরের কারিগরি বিদ্বেষী সহঃ পরিচালক জহুরুল ইসলাম, সংযুক্ত কর্মকর্তা শিশির ধর, বিশ্বজিৎ দে ও কামরুজ্জামানকে দ্রæততম সময়ের মধ্যে অপসারণের দাবিতে বাংলাদেশ কারিগরি (বিএম) অধ্যক্ষ সমিতির উদ্যোগে ০৮, নভেম্বর, ২০২০ খ্রিঃ দেশের ৪৭ টি জেলার ৯৮ জন অধ্যক্ষের অংশগ্রহণে কাচা লংকা রেস্টুরেন্ট, শ্যামলি, ঢাকায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন কারিগরি অঙ্গনের বহুবিধ অসংগতি, কতিপয় কর্মকর্তাবৃন্দের ন্যাক্কারজনক ও অশোভন আচরণে সারাদেশের কারিগরি প্রতিষ্টানের প্রতিনিধিগণ বিশেষ প্রয়োজনে কারিগরি অধিদপ্তরে আসলে সর্বদাই আতংকিত ও শংখিত থাকেন।

তাছাড়া ও উক্ত মত বিনিময় সভায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের আশির্বাদপুষ্ট সহঃ পরিচালক জহুরুল ইসলাম, সংযুক্ত কর্মকর্তা শিশির ধর, বিশ্বজিৎ দে ও কামরুজ্জামানের মত বাংলাদেশকে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর মাধ্যমে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অপশক্তির কতিপয় অশুভ কর্মকান্ডের মধ্যে এইচএসসি (বিএম) এবং কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রমকে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে একটি অপচক্র সুকৌশলে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গুলোতে অবকাঠামো, ল্যাব, কারিকুলাম সংস্কার, বোর্ডের পাঠ্যবই মুদ্রণ, শিক্ষকগণকে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সংস্কার ও ভুমিকা গ্রহণের ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ হতে একাধিকবার আবেদন করা সত্বে ও কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে এইচএসসি (বিএম) শিক্ষাক্রমটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান নয় বলে উক্ত শিক্ষাক্রম সংস্কার না করে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে এমপিও তালিকা হতে বিএম প্রতিষ্ঠান বাদ দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে বর্তমান কারিগরি বান্ধব সরকারের বিশেষ বিবেচনায় এইচএসসি (বিএম) শিক্ষাক্রমটি এমপিও এর তালিকায় স্থান পায়। শুধু তাই নয় বর্তমানে ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে এ শিক্ষাক্রমের নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন, শাখা সংযোজন বন্ধ রয়েছে।

অথচ বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার এনরোলমেন্টের হার ১৮% এর মধ্যে প্রায় ১৪% এইচএসসি (বিএম) শিক্ষাক্রম লীড করছে। এই শিক্ষাক্রম বিলুপ্ত করলে কারিগরি শিক্ষার প্রকৃত এনরোলমেন্টের হার ৩-৪ % নেমে আসবে। যা বর্তমান সরকারের ২০২০ সনে কারিগরি শিক্ষা ২০% এবং ২০৩০ সনে ৩০% এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রাকে সুকৌশলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অপকৌশল।

** কারিগরি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও প্রাপ্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে নন- অফিসিয়ালি বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে নিজেরাই সমস্যা সৃষ্টি করে তার দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দের উপর ন্যস্ত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ বিনা বেতনে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীগণ এমপিও ঘোষনার পর অগ্রহণযোগ্য ও ন্যুনতম সময় বেধে দিয়ে অসংখ্য শর্তারোপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় জানতে চাইলে শাখা হতে বলা হতো আপনারা ফাইল জমা দিন, বিষয়গুলো তো আমরাই দেখব।

এভাবে পরোক্ষভাবে অনৈতিকতায় উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করা হয়। একই নিয়মে নিয়োগকৃত সাধারণ ও মাদ্রাসা অধিদপ্তরের শিক্ষক কর্মচারীগণ এমপিও প্রাপ্তিতে কোন বিরম্ভনার মুখোমুখি হননি. কিন্তু কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় অজুহাতে সিংহভাগ শিক্ষককর্মচারী এমপিও বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মূলত কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ব ও বর্তমান সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সুকৌশলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিই এ অপচক্রের দুরভিসন্ধি।

** এমপিও আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে (যা কেবল আবেদনে উল্লেখ থাকে) ফোন করে এমপিও প্রদানের আশ্বাস দিয়ে সারা দেশ হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্তির আবেদনের ফাইল সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যতিত অন্য কারো জানার কথা নয়। বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ একান্তভাবে কাম্য।

** একটি বিশেষ চক্র কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণী/স্পর্শকাতর পর্যায়ে আসীন থেকে কারিগরি শিক্ষাকে ধংস করার লক্ষ্যে এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সহজিকরণের মাধ্যমে সম্প্রসারণ নীতি অবলম্বন না করে সুকৌশলে কারিগরি সংকোচন নীতি অবলম্বন করে যাচ্ছে ।

বর্তমান কারিগরি বান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং কারিগরি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো সহজীকরণ এবং অগ্রাধিকার বিবেচনায় কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা তথা দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর লক্ষে অসঙ্গতি সমূহ দূরীকরণ, কারিগরি শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তির সহজিকরণ এবং কারিগরি বিদ্বেষী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দের আগামী ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে অপসারণের দাবীতে স্মারক লিপি পেশ করা হয়।

উল্লেখিত সময়ের মধ্যে উদ্ভুত সমস্যা সামাধান না হলে আগামী সপ্তাহ হতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাংগনে সারা দেশের প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) শিক্ষক কর্মচারী অহিংস অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড/ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও শাখাসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের মধ্যে তিন বছরের অধিক সময় কর্মরতদের বদলীপূর্বক দক্ষ, যোগ্য ও পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দকে দায়িত্ব অর্পণ করা।

সেই সঙ্গে বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরতদের বিষয়ে গোপনীয় ও নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক আশু ব্যবস্থা গ্রহণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের যুগান্তাকারী হস্তক্ষেপ আজ সময়ের দাবী।

আরও পড়ুন
Loading...