করোনা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে – শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বর্তমান খবর :
করোনা মহামারি কমে যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে আগামী ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু চলতি মাসে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ায় ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,করোনাভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না।

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে দেশে। এতে গত বছরের তুলনায় এবার মানুষ করোনায় বেশি আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। এছাড়া প্রতিষ্ঠান খোলার আগে দেশের সব শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার কথা ছিল। টিকার অভাবে সেটি এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার(২৭ এপ্রিল)স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা.নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ২২৮ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩১ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল সাত লাখ ৫১ হাজার ৬৫৯ জন। এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ৫ হাজার ২৩৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৯২৭ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আর বলা হয়,মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪৫ জন ও নারী ৩৩ জন। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪৯ জন,বেসরকারি হাসপাতালে ২৭ জনের মৃত্যু হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে,বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে যেসব শিক্ষার্থী থাকেন তাদেরকে টিকার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টিকা সংকটের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে জটিলতা রয়েছে। সেজন্য আপাতত সমস্যাটি সহসায় সমাধানের পথে আসছে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বেশ মুশকিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ মে পর্যন্ত রয়েছে। এই সিদ্ধান্তে এখন পরিবর্তন হয়নি। করোনা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশে করোনা ভাইরাসের থাবায় গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় কয়েক দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়ে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ১৪ এপ্রিল দেশে ৮ দিনের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে। ধাপে ধাপে লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে ঈদের আগেই দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে করোনার এমন অবস্থা থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সুমিচিন হবে না বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষকদের বেশিরভাগই টিকা নিয়েছেন। প্রথম ধাপে যারা টিকা নিয়েছেন দ্বিতীয় ধাপে টিকা নিতে তাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এক লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর সবাইকে টিকা দিতে পারিনি। কারণ সবার এনআইডি নেই। কতজন শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে সে তথ্য আমার কাছে এই মুহূর্তে নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষকদের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর সরকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেবে।

আরও পড়ুন
Loading...