উদ্বোধন হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ

বর্তমান খবর,জামালপুর প্রতিনিধি :
জামালপুর ইসলামপুরে অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদের ১০মে উদ্ভোধন হতে যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন দ্বিতল অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ। সবার আগ্রহ কবে উদ্ভোধন আর কখন নামাজের জন্য দ্বার উন্মোচিত করা হবে।

শেখ হাসিনা হেলথ টেকনোলজি ও ইসলামপুর পৌরসভার পার্শে নান্দনিক এই মসজিদটির অবস্থান। সেই কাঙ্খিত সময় ১০মে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল এমপির সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মসজিদটি উদ্বোধন করবেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সারাদেশকে নিয়ে ইসলামিক চিন্তাবোধে সারা দেশের ন্যায় ইসলামপুরে নান্দনিক এই মসজিদটি উদ্ভোধন হচ্ছে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই মডেল মসজিদে থাকছে এক সাথে ৮ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিরা উৎসাহ প্রকাশ করে বলেন-এই রকম মসজিদ এখানে হবে এটা প্রথমে ভাবতেই পারিনি। তবে
এত সুন্দর মসজিদ তৈরি হয়ে বেশ ভালো লাগছে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরিদুল হক খান দুলাল এমপি জানান- বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামী মূল্যবোধের উন্নয়ন এবং ইসলামী সাংস্কৃতি প্রসারে উদ্দ্যেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মানের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রæতি আজ বাস্তবায়নের দারপ্রান্তে।

বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম বর্তমান সরকার এক সঙ্গে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করছে।

তিনি জানান- ১৯৭৫ সালের ২২মার্চ ইসলামী ফউন্ডেশন আইনজারী করে মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারি ধারাবাহিকতায় তার সুযোগ্য কন্যা মাননীন প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পূরণে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংকৃ¦ৃতিক কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম গ্রহন করে মুসলিম বিশ্বে এক অনন্য অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক দৃষ্টিনন্দন মসজিদ,নারী পুরুষদের জন্য পৃথক অজুর স্থান, নামাজ কক্ষ,ইমাম প্রশিক্ষন কেন্দ্র,হফেজ খানা,গণশিক্ষা কেন্দ্র, গবেষনা কেন্দ্র,পাঠাগার, শিশু শিক্ষা, মৃতদেহ গোছলের ব্যবস্থা,জানাযার ব্যবস্থা,অটিজম কর্ণার, ইকর্ণার বিদেশী পর্যটকদের আবাসনের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধনকেন্দ্র ,ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা,ইমাম মুয়াজ্জিম আবাসন সহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা,মসজিদের আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে বিশাল পার্কিং ব্যবস্থা।

সরকারে টেকসহ উন্নয়ন লক্ষ মাত্রা অর্জনে একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান শুদ্ধাচার কৌশল। আদর্শ ও চরিত্রবান নাগরিক গঠনে এই মসজিদ ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষন গবেষনা,সভা,কর্মশালা,ওয়াজ মাহফিল,সেমিনার,থাজিয়াম আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে।
এখানে লাইব্রেবী গবেষনা সহ ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা, প্রচার ও বিকাশের নানা মূখি ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি দূর্নীতি শোষন মুক্ত,ন্যায় ভিত্তির স্বপ্নেন সোনার বাংলা গঠনে,উল্লেখ যোগ্য অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। সরকার উদ্যোগ ও অর্থায়নে একই সাথে এতগুলো মসজিদ নির্মানের এই মহতি উদ্যোগ জাতির ইতিহাসে শুধু নয়, মুসলিম উম্মার ইতিহাসেও স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাস,জঙ্গীবাদ,নারী প্রতি সহিংসতা রোধ,সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি তৃণমূল পর্যন্ত ইসলাম ধর্মের সঠিক প্রচার.প্রসার ধর্মীয় সভা সেমিনারে আয়োজন, হজ যাত্রীদের প্রশিক্ষন হামদ,নাথ ,কেরাত প্রতিযোগীতা তথা ইসলামীক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা,ইসলামিক রিচার্জ ,ইমাম মুয়াজ্জিমদের ট্রেনিং,সামাজিক সমস্যা -বাল্য বিবাহ,যৌতুক ও মাদক সহ নানাবিধ সামাজিক সমস্যা সমাধানে আলেম উলামাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এ মডেল ও ইসলামীক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ন প্লাটফ্রম হিসাবে কাজ করবে। এদেশের সর্বস্তরের আলেম ওলামার কর্মস্থান সৃষ্টিতে ও বিশাল ভূমিকা পালন করবে।

নির্মানাধীন ইসলামীক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্মোলিত এসব কমপ্লেক্স বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা
অবিচ্ছেদ্ধ অঙ্গ হিসাবে কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন- মুসলিম বিশ্বের কোন দেশের মুসলিম শাসক বা সরকার প্রধান একসাথে ৫৬০টি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহন করেননি। এ উদ্যোগ মূলত জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদুর প্রসারী ও দূরদর্শী চিন্তাধারা সফল।

এটি উন্নত, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ সমাজ গঠন তথা টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জন সহ একটি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ সোনার বাং গড়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান বলে আমি বিশ্বাশ করি।

তিনি এই শুভক্ষনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বাধীন সার্বভোম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতীর পিতা শেক মুজিবুর রহমানসহ ১৫আগষ্ট সকল শহিদ,জাতীয় চারনেতা, যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ,স্বজনহারা পরিবার ও ৭১সালে নির্যাতিত মা বোনদের স্মরণ করেন এবং আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আরও পড়ুন
Loading...